গাইবান্ধায় গৃহবন্দিদের জন্য ২’শ টন চাল,৯ লাখ টাকা বরাদ্ধ

কোরোনা ভাইরাস

হামিদুল হক মন্ডল,গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত ১০দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এসময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাহিরে না যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে দিনমজুর পরিবারগুলো। তাদের চলছে চরম খাদ্য সংকট। এসব শ্রমজীবী মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিতে গাইবান্ধায় ২০০ মেট্রিকটন চাল ও নগদ ৯ লাখ টাকা বরাদ্ধ করেছে সরকার।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানা যায়,গাইবান্ধায় নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য সহায়তা হিসেবে ২০০ টন চাল ও নগদ ৯ লাখ টাকা বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। বরাদ্ধকৃত চাল ও টাকা জেলার সাতটি উপজেলা ও চারটি পৌরসভা এলাকায় ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এরমধ্য সদর উপজেলায় ৩৬ মেট্রিকটন চাল ও এক লাখ ৮০ হাজার টাকা, পলাশবাড়ীতে ২০ টন চাল, একলাখ টাকা, সাদুল্লাপুরে ২২ টন চাল ও এক লাখ দশ হাজার টাকা, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ৪০ মেট্রিকটন চাল ও নগদ দুই লাখ টাকা, সুন্দরগঞ্জে ৪০ টন চাল, দুই লাখ টাকা, সাঘাটায় ২২ টন চাল ও একলাখ দশ হাজার টাকা এবং ফুলছড়ি উপজেলায় ২০ টন চাল ও এক লাখ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া জেলার চারটি পৌরসভায় দেওয়া হয়েছে ১৮ টন চাল ও নগদ ৬৫ হাজার টাকা। এরমধ্য গাইবান্ধা পৌরসভা ৫ মেট্রিকটন চাল, গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভায় ৫ টন চাল ও নগদ ২৫ হাজার টাকা, পলাশবাড়ী পৌরসভায় চারটন চাল, বিশ হাজার টাকা এবং সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় চার টন চাল ও বিশ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন বলেন,জাতির এমন ক্রান্তিলগ্নে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে বলেন, নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী গৃহবন্দি পরিবারগুলোর জন্য সরকারের খাদ্য সহায়তা হিসেবে এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলবে। বিতরণ অব্যাহত আছে। প্রতিদিনই চাহিদাপত্র পাঠানো হচ্ছে, বরাদ্ধও মিলছে। সোমবার রাতেও নতুন করে ১০০ মেট্রিকটন চাল ও তিন লাখ টাকা বরাদ্ধ পাওয়া গেছে, বিভাজন প্রক্রীয়াধীন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলহাজ মো. ইদ্রীস আলী বলেন,সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সহযোগিতায় ইউপি জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এসব চাল, ডাল,আলু সহ খাদ্য সহায়তা বিতরণ চলছে।

এদিকে, করোনা মোকাবেলায় ঘনঘন হাত ধোয়া সহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে সিভিল সার্জন এবিএম আবু হানিফ বলেন, এখন আমাদের ঘরে অবস্থান করা, আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকা খুবই জরুরি। তিনি বলেন, গাইবান্ধায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন দুজনসহ হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ২২১ জন। গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে আইসোলেশনে রয়েছেন চারজন। ২২ জনের হোম কোয়ারেন্টিন শেষ হওয়ায় তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.